১০ কোটি ডলারের একটি নমনীয় ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ঋণগ্রহীতা বিশেষ করে নারীদের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন ঋণের সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই ঋণ অনুমোদন। ৪০ হাজার পরিবারকে এই ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সাশ্রয়ী আবাসন ঋণ প্রকল্পের আওতায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং যোগ্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হবে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এডিবি জানায়, এই ঋণ পরিবারগুলোকে তাদের বাড়ি নির্মাণ, মেরামত ও মানোন্নয়নে সহায়তা করবে। প্রথাগত গৃহঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা থেকে সাধারণত বঞ্চিত এবং অনানুষ্ঠানিক আয়ের উৎসযুক্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের যে বড় ঘাটতি এবং আবাসন ঋণ প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এই প্রকল্প তা মোকাবিলা করবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, মর্যাদা, সুযোগ এবং দুর্যোগ-সহনশীলতা অর্জনের ক্ষেত্রে আবাসন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল বাড়ি তৈরিতে বিনিয়োগে সহায়তা করার মাধ্যমে এই প্রকল্প দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মতো বাংলাদেশের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলো অর্জনে অবদান রাখবে।
এডিবি আরও জানায়, ২০৩১ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি আর্থিক ও ভূমি-বিষয়ক সাক্ষরতা এবং আবাসন অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসের ব্যবস্থার যথাযথ নথিবদ্ধকরণের মাধ্যমে নারীদের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
সারাদেশে আবাসন সংক্রান্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ এবং দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধি এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এই প্রকল্পের আওতায় বাড়িঘর নির্মাণে এমন সব নকশা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হবে যা বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য দুর্যোগ ও চরম আবহাওয়াজনিত প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম হবে।
উন্নত তথ্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, দুর্যোগ-ঝুঁকি যাচাইকরণ, পোর্টফোলিও পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল রিপোর্টিং পদ্ধতির মাধ্যমে পিকেএসএফ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে প্রকল্পটি দেশের আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং বেসরকারি খাতের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
এই অর্থায়নের মধ্যে রয়েছে এডিবির জলবায়ু অভিযোজন তহবিল থেকে প্রাপ্ত ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার এবং এর পাশাপাশি ৬ লাখ মার্কিন ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান।
অর্থনীতি · ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · অপরাহ্ণ ৪:২২ · প্রতিবেদক: Rahima Khanam
ঋণ পাবে ৪০ হাজার পরিবার
