সাংবাদিকতার পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গেন্ডারিয়া–সূত্রাপুর-ওয়ারীতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি
নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজধানীর গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুরও ওয়ারী এলাকায় সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এস এম রিপন রুদ্রের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রিপন রুদ্র নিজেকে একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে sangbadbd24.com নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখানো এবং অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সাংবাদিকতার পরিচয়কে প্রভাব হিসেবে ব্যবহার করে তাঁদের নিয়মিতভাবে চাপ ও হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে। কারও ব্যবসা বা ব্যক্তিগত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়ে থাকলে, বিষয়টি সাধারণ সাংবাদিকতার কার্যক্রম নয়; এটি গুরুতর অভিযোগ এবং আইনগতভাবে তদন্তের দাবি রাখে।
রিপন রুদ্রের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও একাধিক অভিযোগের কথা স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় সাত বছর আগে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কারাবরণের দাবি এবং নারী যৌনকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ‘২২০’-সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব পুরোনো ঘটনার সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মামলা, আদালতের নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
বিসমিল্লাহ লন্ড্রির মালিক মো. আলমগীর বলেন, “এস এম রিপন রুদ্র আমাকে একাধিকবার ফোন করেছেন। তাঁর সঙ্গে আমার কথোপকথনের রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি আমার বিকাশ ও নগদ এজেন্ট ব্যবসার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দাবি করেন, আমার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন হচ্ছে। তিনি এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও রিপোর্ট করার কথা বলেন। এমনকি আমাকে মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত হিসেবে তুলে ধরার কথাও জানান। এসব সংবাদ প্রকাশ না করার বিনিময়ে তিনি আমার কাছে অর্থ দাবি করেন। তাঁর দাবির বিষয়ে আমার কাছে থাকা কল রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে আমি প্রস্তুত।”
এদিকে sangbadbd24.com-এর নিবন্ধন ও অনুমোদনের বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে রয়েছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, মালিকানা ও নিবন্ধন যাচাই ছাড়া তার প্রতিনিধির সাংবাদিক পরিচয়কে স্বীকৃত ধরে নেওয়া উচিত নয়।
গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুরও ওয়ারীর ব্যবসায়ীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, কথিত চাঁদাবাজির প্রমাণ যাচাই এবং সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিকতার পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গেন্ডারিয়া–সূত্রাপুর-ওয়ারীতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি

