দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুনত্বের অংশ হিসেবে এবার শুধু ক্রিকেটার নয়, কোচিং স্টাফদেরও ড্রাফটের মাধ্যমে দলভুক্ত করা হয়েছে। ‘ডোমেস্টিক থ্রি ট্রফি’কে সামনে রেখে ছয় দলের জন্য প্রধান কোচ, সহকারী কোচ, ফিজিওথেরাপিস্ট, স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ এবং পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট বেছে নিয়েছে দলগুলো।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয় ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট। যেটা এর আগে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কখনো হয়নি। প্রতি দল ড্রাফটের মাধ্যমে ৫জন কোচিং স্টাফ বেছে নেয়। টিম ম্যানেজার, মিডিয়া ম্যানেজারদের নিজেরাই বেছে নিবে, তবে সেটা বিসিবি থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
ড্রাফটে প্রথম বিসিবি কর্মকর্তারা বক্স থেকে লটারি তুলেন, যেখানে দলগুলোর নাম উঠে আসে। এরপর ওই দল আরেকটি বক্স থেকে লটারি তোলে সেখানে ঠিক হয় কত নম্বরে তারা নিজেদের হেড কোচ বা অন্যান্যদের নাম বেছে নিতে পারবেন।
হেড কোচ হিসেবে এস ব্লুস্টার বেছে নিয়েছে সোহেল ইসলামকে। একমি রাজিন সালেহ, সিটিজেন্স ব্যাংক মিজানুর রহমান বাবুল, ফরচুন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সেভেন রিংস সিমেন্ট তালহা জুবায়ের এবং ওয়ালটন বেছে নিয়েছে আবদুর রাজ্জাককে।
সহকারী কোচদের মধ্যেও রয়েছে পরিচিত বেশ কয়েকটি নাম। এস ব্লুস্টার বেছে নিয়েছে সালাহউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল ও আশিকুর রহমান মজুমদারকে। এছাড়া ওয়ালটন তুষার ইমরান ও ডলার মাহমুদ, সিটিজেন্স ব্যাংক নাজমুল হোসেন ও মোহাম্মদ সেলিম, একমি তারেক আজিজ খান ও ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, ফরচুন মোহাম্মদ আশরাফুল ও আবদুল করিম জুয়েল এবং সেভেন রিংস সিমেন্ট হান্নান সরকার ও হুমায়ুন কবীর শাহীনকে সহকারী কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে ড্রাফট থেকে।
ফিজিওথেরাপিস্টদের মধ্যে ফরচুন বেছে নিয়ে জাতীয় দলের বায়েজেদুল ইসলাম খান, ওয়ালটন এনামুল হক, সেভেন রিংস সিমেন্ট দেলোয়ার হোসেন শিবা, এস ব্লুস্টার জয় বিশ্বাস, একমি আবু রেজা শরিফুল হাসান এবং সিটিজেন্স ব্যাংক খায়রুল ইসলামকে।
স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচদের মধ্যে সিটিজেন্স ব্যাংক বেছে নিয়েছে কালাইন আশিস রায় বাপ্পি, এস ব্লুস্টার রুবাইয়াত হক, একমি তুষার কান্তি হাওলাদার, ফরচুন এম. মনিরুজ্জামান, সেভেন রিংস সিমেন্ট ইফতেখারুল ইসলাম ইফতি এবং ওয়ালটন আসলাম খানকে।
পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট হিসেবে ওয়ালটন বেছে নিয়েছে নাসির আহমেদ নাসুকে। আর একমি সন্দীপ কুমার রামন, সিটিজেন্স ব্যাংক অনিক নেওগী, ফরচুন আমদাদুল হক লিওন, সেভেন রিংস সিমেন্ট জাহানে আলম এবং এস ব্লুস্টার এসএম জুলফিকুর আলীকে দলে নিয়েছে।
এবারের আয়োজনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো কোচিং স্টাফদেরও ড্রাফটের মাধ্যমে দল বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। লটারির মাধ্যমে প্রত্যেকের সিরিয়াল নির্ধারণ করা হয়। এরপর সেই সিরিয়াল অনুযায়ী নিজেদের পছন্দের দল বেছে নেন প্রধান কোচ, সহকারী কোচসহ কোচিং ও সহায়ক স্টাফরা।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর বরিশালের জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে ডি থ্রির যাত্রা। সংস্কারের পর এই টুর্নামেন্ট দিয়েই নতুন করে পথচলা শুরু হবে মাঠটির। শুরুটা বরিশালে হলেও ধীরে ধীরে দেশের সব বিভাগে ডি থ্রি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির।
টি-টোয়েন্টির পর আগামী বছরের জানুয়ারিতে হবে চার দিনের সংস্করণ। এরপর মে মাসে মাঠে গড়াবে ৫০ ওভারের ক্রিকেট। তিন সংস্করণ মিলিয়ে একটি দল ড্রাফট থেকে সর্বোচ্চ ২৩ জন ক্রিকেটার নিতে পারবে। খেলোয়াড় ড্রাফটের তারিখ এখনো জানায়নি বিসিবি।
খেলাধুলা · ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · অপরাহ্ণ ৬:০৫ · প্রতিবেদক: Rahima Khanam
ড্রাফট থেকে কোচ বাছল দলগুলো
