সম্পদ বিনিয়োগে নতুন নতুন পথ খুঁজছেন এশিয়ার অতি ধনীরা। তাদের আগ্রহের তালিকায় রয়েছে সোনা, রিয়েল এস্টেট, ডিজিটাল সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি। মালায়ান ব্যাংক বেরহাদের সিঙ্গাপুরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালভিন লি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, অতি ধনীরা সাধারণত আর্থিক বিনিয়োগের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ও মূল্যবান ধাতুতেও অর্থ রাখেন। বিশেষ করে সোনার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম চলতি বছরের শুরুর রেকর্ড উচ্চতা থেকে কিছুটা কমেছে। তবে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ডলারের দাম ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় এখনো অনেক বেশি।
গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বছরের শেষে দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০০ ডলারে উঠতে পারে।
এশিয়ার ধনীরা যখন সোনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন, তখন সোনার সরবরাহের দিকেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
অ্যালভিন লির ভাষ্য, দুবাই থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে বড় পরিমাণে ভৌত সোনা এখন সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অ্যালভিন লি মনে করেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটের সময় সিঙ্গাপুর সাধারণত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সুবিধা পায়। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে দুবাইয়ে যাওয়া কিছু অর্থ এখন আবার সিঙ্গাপুরে ফিরছে বলেও মনে করেন তিনি।
সিঙ্গাপুরের স্থিতিশীল সরকার, আকর্ষণীয় করব্যবস্থা এবং শক্তিশালী মেধাস্বত্ব কাঠামো বিদেশি সম্পদের জন্য দেশটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। লির মতে, আঞ্চলিক সংকটের সময় সিঙ্গাপুর সরাসরি বা পরোক্ষভাবে লাভবান হয়।
নতুন প্রজন্মের ধনীদের পছন্দ ডিজিটাল সম্পদশুধু সোনা বা রিয়েল এস্টেট নয়, এশিয়ার অতি ধনীরা নতুন ধরনের সম্পদেও আগ্রহী হচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি। বয়স্ক প্রজন্ম থেকে তরুণ প্রজন্মের হাতে সম্পদ যাওয়ার সময় বিনিয়োগের ধরনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
এশিয়ার ধনীদের সম্পদ সরানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে মালয়েশিয়া।
অ্যালভিন লির মতে, চীনের ধনী ব্যক্তিরা এখন মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের বিষয়ে বেশি আগ্রহী। ব্যবসা স্থানান্তরের পাশাপাশিপরিবার নিয়ে বসবাসের জন্যও তারা মালয়েশিয়াকে বিবেচনা করছেন।
এর অন্যতম কারণ সিঙ্গাপুরের তুলনায় মালয়েশিয়ায় সম্পদের মূল্য তুলনামূলক আকর্ষণীয় বলে মনে করছেন তারা।
চীনা ধনীরা মালয়েশিয়ায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রিয়েল এস্টেট কিনছেন। ব্যবসার জন্যও তারা সম্পদ কিনছেন বলে জানিয়েছেন অ্যালভিন লি।
এই প্রবণতায় কুয়ালালামপুর বিশেষভাবে লাভবান হচ্ছে। মালাক্কাও এর সুবিধা পাচ্ছে। এ ছাড়া চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছে পেনাং দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয় একটি জায়গা।
হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্টের মার্চে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিয়ার রয়েছে চীনে। দেশটিতে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ১ হাজার ১১০। যুক্তরাষ্ট্রে এই সংখ্যা এক হাজার।
বিশাল এই সম্পদশালী শ্রেণির একটি অংশ এখন দেশের বাইরে ব্যবসা, বসবাস ও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। সেই প্রবণতায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো এশিয়ার দেশগুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সূত্র: সিএনবিসি