ষড়ঋতুর দেশে শরতের পর আসে হেমন্ত, এরপর শীতকাল। তবে এবারো শরৎ শেষ না হতেই উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে বদলে গেছে ভোরের দৃশ্য। বৃষ্টির পর দুদিন ধরে তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোরের দিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে এলাকা। ফসলের মাঠ, ঘাস ও গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
হিমালয় কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়ে সাধারণত অক্টোবরের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে শীতের আমেজ শুরু হয়। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি থাকে। তবে এবার শরৎ শেষ হওয়ার আগেই আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের বিষয়টি উপভোগ করছেন স্থানীয়রাও।
বর্তমানে তেঁতুলিয়াসহ জেলার আশপাশের এলাকায় দিনে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ওঠানামা করছে। দুদিন ধরে সকাল ৭টা পর্যন্ত অনেক এলাকা ছিল কুয়াশায় ঢাকা। দিনের বেলায় স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকলেও রাত ও ভোরে অনুভূত হচ্ছে হালকা শীত। বুধবার সকালে ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস।
এদিকে ভোরের কুয়াশা আর শিশিরে বদলে গেছে গ্রামাঞ্চলের পরিবেশ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিবারে চাদর-কাঁথার ব্যবহারও শুরু হয়েছে। হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারনে কেউ কেউ সর্দি, জ্বরসহ শীতজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন।
করতোয়া পাড়ের রামের ডাঙ্গা মহল্লার কৃষি শ্রমিক জয়নব বানু বলেন, শীত মানেই আমাদের বিপদ। এসময় ঠান্ডায় কাজ করতে অসুবিধা হয়। কয়েক দিন ধরে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে গেছে এবং শীত শুরু হয়ে গেছে। এই শীতের কারণে আমাদের বাড়িতে কয়েকজন সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। পাশের বাড়িতেও একই অবস্থা।
স্থানীয় কয়েকজন পাথর-বালু ও কৃষি শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতকালীন ভোরে মাঠে কাজ করতে গেলে কুয়াশা ও ঠান্ডার মধ্যে থাকতে হয়। শীত যত বাড়বে, কাজের কষ্টও তত বাড়বে। তাদের প্রত্যাশা, শীতপ্রবণ এই এলাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে প্রশাসন। বিশেষ করে শীতবস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি তাদের।
জেলা শহরের মসজিদ পাড়া মহল্লার কলেজ শিক্ষক শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পঞ্চগড়ে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশ আগেভাগেই শীত শুরু হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। কয়েকদিন ধরে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির পর উত্তর দিক থেকে হিমেল বাতাস প্রবেশ করায় ভোরে কুয়াশা এবং শীতের অনুভূতি বাড়ছে। রাতে এখন ফ্যানের বদলে কাঁথা জড়িয়ে ঘুমাতে হয়।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, বুধবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার ম্যাক্সিমাম তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৪ এর ঘরে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ এর ঘরে অবস্থান করছে। যদিও শীতকাল আসতে আরও প্রায় এক মাস রয়েছে। তারপরও রাত থেকে সকাল দশটা অব্দি কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে উত্তরের এই জনপদ। মৌসুমী বায়ু নিষ্ক্রিয়তা, বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলায় মেঘমুক্ত আকাশের সঙ্গে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকে বলে জানান তিনি।
সারাদেশ · ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · অপরাহ্ণ ১:০৭ · প্রতিবেদক: Rahima Khanam
পঞ্চগড়ে শীতের আমেজ
