জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বরিশালে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। কয়েকদিন ধরে সবজি চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। দীর্ঘদিন ধরে চড়া রয়েছে মাছের বাজারও। সপ্তাহ ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে এমন চিত্র দেখা গেছে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মাছের বাজার ও বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজার ঘুরে।
পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ ৮০-৯০, পটল ৫০, ঢেঁড়স ৪০-৫৫, চিচিঙ্গা ৪০-৫০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৫৫, করলা ৫০-৬০, বেগুন ৬০-৯০, ফুলকপি ১১০, বাঁধাকপি ৬০, গাজর ১১০, লাউ ৩০-৪০, লেবু হালি ৩০ এবং পেঁপে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাকা মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০, কাঁকরোল ৬০-৮০ ও কচুর লতি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন সিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।
এসব সবজি খুচরা বাজারে পাইকারির চেয়ে ২০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
নগরীর বাংলাবাজারের ক্রেতা রাসেল বলেন, কিছুদিন আগেও সবজির দাম নাগালের মধ্যে ছিল। এখন আবার তেলের দোহাই দিয়ে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ ছিল ৮০ টাকা, এখন ১২০ টাকা কেজি কিনেছি। বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে এমন দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরেক ক্রেতা শাহিন বলেন, কয়েক দিন আগেও সব ধরনের সবজির দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে ছিল। এখন কোনো সবজি ১০০ টাকার নিচে নেই। আস্তে আস্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির দামে প্রভাব পড়েছে। বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, কিছুদিন বৃষ্টির কারণে বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবজির দামে প্রভাব পড়েছে।
এদিকে একই চিত্র নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারি মাছের বাজারেও। নদীর মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছের চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে। সপ্তাহ ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
দেলোয়ার নামে এক ক্রেতা বলেন, এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি। এখন সেই চিংড়ি মাছ ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পছন্দের মাছ কিনতে পারছি না।
আরেক ক্রেতা সবুজ বলেন, এখন সাধারণ মানুষের পক্ষে ভালো কোনো জাতের মাছ কেনা সম্ভব নয়। আর ইলিশ তো এখন স্বপ্ন। আগে এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে এলে মাছ-সবজি দুটোই কেনা যেত। এখন এক হাজার টাকায় এক ধরনের মাছই কিনতে পারা যায়। তাই সাধ্যের মধ্যে দুই কেজি পাঙ্গাশ মাছ কিনেছি।