সিলেটের বিয়ানীবাজারের কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে গ্রামীণ সড়ক ও তীরবর্তী এলাকা নদীতে বিলীন হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় ঝুঁকিতে পড়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার দুপুরে উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর দেউলগ্রামে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়। 
আকস্মিক এ ভাঙনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত বর্ষা মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন বেশি দেখা গেলেও এবার শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন বেড়েছে। গত সোমবার থেকে আকস্মিক ভাঙন শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিনিয়ত নদীপাড়ের রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে। নদীতীরবর্তী সড়ক, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি হারানোর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। 
কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রাম ছাড়াও গোবিন্দশ্রী ও উত্তর আকাখাজানা, শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া, তেরাদল, বালিঙ্গা ও কোনাশালেশ্বর এবং দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরিয়া ও নয়া দুবাগ এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এসব এলাকার বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারাতে পারে।
এদিকে, শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি স্টিলের কালভার্ট, সড়ক ও কয়েকটি বসতবাড়িও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগে ওই অংশে সাময়িক মেরামত করা হলেও গত সপ্তাহে সেখানে আবারও ভাঙন দেখা দেয়। পরিস্থিতির কারণে স্থানীয়দের কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন বাড়ির উঠান দিয়ে চলাচল করছেন।
দেউলগ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নদীপাড়ে বসবাস করায় তাদের দীর্ঘদিনের ভাঙনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই নদীতীরের কোনো না কোনো অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। তবে গত সোমবারের ভাঙন ছিল অস্বাভাবিক তীব্র। অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামের চলাচলের সড়কের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 
স্বাভাবিক চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। একই এলাকার বাসিন্দা আশরাফুর রহমান বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গ্রামের অনেক মানুষ বসতভিটা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়বেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে বিয়ানীবাজারের নদীতীরবর্তী জনপদে বসতভিটা, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, দেউলগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলেছি। 
পাশাপাশি সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে অস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান বলেন, বিয়ানীবাজারের ইউএনওর মাধ্যমে তারা ভাঙনের বিষয়টি জেনেছি। তাৎক্ষণিক বরাদ্দের সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় এ মুহূর্তে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। 
তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত বরাদ্দ এনে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকাটি রক্ষার চেষ্টা চলছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিগগির এ বিষয়ে প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।