ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টির (আইএলটি২০) পঞ্চম আসরের খেলোয়াড় নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ অক্টোবর দুবাইয়ে। ২০২৬ সালের আসর সামনে রেখে এই নিলামে অংশ নেবে টুর্নামেন্টের ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। নিলামের মাধ্যমে নিজেদের স্কোয়াড চূড়ান্ত করার সুযোগ পাবে দলগুলো।
২০২৬ সালের আইএলটি২০ অনুষ্ঠিত হবে ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ছয় দলের এই টুর্নামেন্টে মোট ৩৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
আগস্টে প্রাক-নিলাম সাইনিংয়ের মাধ্যমে বেশ কিছু খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার পর এবার নিলামের দিকে তাকিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। নিলামে প্রতিটি দলের হাতে থাকবে ১৩ লাখ মার্কিন ডলারের অর্থ। এর সঙ্গে সরাসরি সাইনিং ও রিটেনশনের জন্য বরাদ্দ ৭ লাখ ডলারের মধ্য থেকে অব্যবহৃত অর্থও যোগ হবে।
তবে দলগুলোকে স্কোয়াড গঠনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যেই থাকতে হবে। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পুরো স্কোয়াডে অন্তত ১৫ লাখ এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে।
আইএলটি-২০’র পঞ্চম আসরে প্রতিটি দলকে ১৮ থেকে ২৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে হবে। শুধু খেলোয়াড়ের সংখ্যা নয়, কোন দেশের কতজন ক্রিকেটার দলে থাকবেন, সেটিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটারদেরও সুযোগ দিতে জাতীয়তার ভিত্তিতে কোটা রাখা হয়েছে।
প্রতিটি স্কোয়াডে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর অন্তত ১১ জন খেলোয়াড় থাকতে হবে। এর মধ্যে কমপক্ষে চারজন আফগান ক্রিকেটার এবং একজন আইরিশ ক্রিকেটার থাকা বাধ্যতামূলক।
এর পাশাপাশি প্রতিটি দলকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চারজন খেলোয়াড় নিতে হবে। কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে একজন করে খেলোয়াড় দলে রাখতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো সহযোগী সদস্য দেশের অন্তত একজন খেলোয়াড়ও স্কোয়াডে থাকতে হবে।
অর্থাৎ আইএলটি-২০’র পঞ্চম আসরে দল গঠনের ক্ষেত্রে বড় দেশগুলোর ক্রিকেটারদের পাশাপাশি আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব ও অন্যান্য সহযোগী দেশের ক্রিকেটারদের জন্যও নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে।
৬টি ফ্রাঞ্চাইজি তাদের পুরনো স্কোয়াড থেকে খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগ পেয়েছে। এ হিসেবে ৬ ফ্রাঞ্চাইজি সর্বমোট ১৩জন ক্রিকেটারকে ধরে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমানও। দুবাই ক্যাপিটালস রোভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে ধরে রেখেছে বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি কাটার মাস্টারকে। আইএলটি২০’র গত আসরে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে ৮ ম্যাচ খেলে ১৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ।
এছাড়া আবুধাবি নাইট রাইডার্স সুনিল নারিন, জেসন হোল্ডার, ডেজার্ট ভাইপার্স- আন্দ্রেস গউস, ড্যান লরেন্স ও শিমরন হেটমায়ার, গালফ জায়ান্টস আজমতউল্লাহ ওমরজাই, ব্লেসিং মুজারাবানি, এমআই এমিরেটস- নিকোলাস পুরান, রশিদ খান ও রোমারিও শেফার্ড এবং শারজাহ ওয়ারিয়র্স ধরে রেখেছে সিকান্দার রাজাকে।
নিলামে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য তিনটি স্তরে নির্ধারণ করা হয়েছে- ১০ হাজার, ৪০ হাজার এবং ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। খেলোয়াড়ের যোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এই ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হবে।
তবে আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের খেলোয়াড়দের জন্য ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
নিলাম শুরু হবে খেলোয়াড়ের নির্ধারিত ভিত্তিমূল্য থেকে। এরপর বিডের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ২ হাজার ডলার করে বাড়বে। ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে বিড বাড়বে ৫ হাজার ডলার করে। আর ১ লাখ ডলারের বেশি হলে প্রতিটি বিডে ১০ হাজার ডলার করে যোগ হবে।
চারটি কার্ডের একটি ব্যবহার করা যাবে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের খেলোয়াড়ের জন্য, একটি কোনো সহযোগী দেশের খেলোয়াড়ের জন্য, একটি আরব আমিরাতের খেলোয়াড়ের জন্য এবং আরেকটি কুয়েত অথবা সৌদি আরবের এমন খেলোয়াড়ের জন্য, যিনি আইএলটি-২০’র চতুর্থ আসরে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছিলেন।
এই ব্যবস্থায় আগের আসরের নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের ধরে রাখার পাশাপাশি নিলামে নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রেও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বাড়তি সুযোগ পাবে।
নিলামের সাধারণ খেলোয়াড় সেটগুলো শেষ হওয়ার পরও যেসব ফ্র্যাঞ্চাইজির স্কোয়াডে জায়গা খালি থাকবে, তারা ‘অ্যাক্সেলারেটেড সেট’-এর জন্য খেলোয়াড় মনোনয়ন দিতে পারবে। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ আটজন খেলোয়াড়কে এই সেটের জন্য মনোনীত করতে পারবে। এরপর নিলাম শেষ হওয়ার আগে সেই খেলোয়াড়দের নিয়েই চূড়ান্ত বিডিং হবে। ফলে সাধারণ নিলাম শেষে কোনো দলের প্রয়োজনীয় জায়গা পূরণ না হলে দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণের সুযোগও থাকছে।
শুধু নিলামের নিয়মেই নয়, টুর্নামেন্ট চলাকালীন খেলোয়াড় বদলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে, আন্তর্জাতিক দায়িত্বের কারণে দলের সঙ্গে থাকতে না পারলে কিংবা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) না পাওয়ার কারণে খেলতে না পারলে তাকে বদলানোর সুযোগ থাকবে। তবে এই পরিবর্তন করা যাবে লিগ পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত।
তবে কোনো দলের বাধ্যতামূলক কোটা পূরণ করা খেলোয়াড়কে বদলাতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। অর্থাৎ যেসব খেলোয়াড় জাতীয়তা-ভিত্তিক বাধ্যতামূলক কোটার অংশ, তাদের বদলি নিতে হবে নিলামের জন্য নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের পুল থেকেই।
সব মিলিয়ে আইএলটি-২০’র পঞ্চম আসরের নিলামে শুধু তারকা ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার লড়াই নয়, দলগুলোর জন্য জাতীয়তা, বাজেট ও স্কোয়াডের আকার- সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
খেলাধুলা · ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · অপরাহ্ণ ৪:৪২ · প্রতিবেদক: Rahima Khanam
১ অক্টোবর আইএলটি২০’র নিলাম
